নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সরকারী সফর আলী কলেজ সংলগ্ন টিপু সুলতান সুপার মার্কেট জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূইয়া, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান আব্দু এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কালামের বিরুদ্ধে।
মালিক টিপু সুলতান অভিযোগ করেছেন—এক ধরনের ‘নাটকীয়তা ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে’ তার মার্কেটকে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে কৌশলে নিজেদের দখলে নিয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে ওই নেতারা।
মার্কেট ভাড়া নিয়ে ‘দলীয় অফিস’ বানানোর অভিযোগ
তথ্যসূত্র মতে, ১২টি দোকান নিয়ে গঠিত টিপু সুলতান সুপার মার্কেটটি ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন নামে এক ভাড়াটিয়ার কাছে ৫ বছরের জন্য ৯ লাখ টাকা অগ্রিম ও বাৎসরিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়।
তিনি ‘সোনার মদিনা’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালাতেন দুই বছর। পরে ব্যবসা বন্ধের ইচ্ছা প্রকাশ করে অতিরিক্ত এক বছরের সময় নেন, যার আট মাস অতিক্রম হয়েছে এবং চার মাস বাকি।
এই সময়েই—মার্কেট মালিককে না জানিয়েই—২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আড়াইহাজারের আম্বার রেস্টুরেন্টে বসে দেলোয়ারের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ৬ লাখ টাকা অগ্রিমে দোকান ভাড়া নেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইউসুফ ভূইয়াসহ অন্যরা—এমন অভিযোগ টিপু সুলতানের।
অভিযোগ : মালিককে থানায় টেনে নিয়ে চাপ সৃষ্টি
টিপু সুলতান অভিযোগ করেন, পরদিন ২৯ নভেম্বর দুপুরে মসজিদে নামাজে যাওয়ার সময় তাকে জোরপূর্বক ধরে থানা পর্যন্ত নিয়ে যান অভিযুক্তদের সহযোগীরা। সেখানে তাকে দোকান ভাড়া দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
হার্টের রোগী হওয়ায় চাপ সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মার্কেটের তালা খুলে দিলেও, ভাড়া নেয়া হয় তার কাছ থেকে নয়—বরং তার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকেই—যা পুরোপুরি বেআইনি বলে দাবি মালিকের।
তালা খোলার পরপরই ইউসুফ, আব্দু ও কালামের লোকজন মার্কেট দখলে নেয় বলে অভিযোগ পরিবারটির। এরপর থেকেই মালিক পক্ষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
‘বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা’—মালিক পক্ষের অভিযোগ
টিপু সুলতান ও তার পরিবার দাবী করে বলেন—
“সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। উল্টো নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পদ দখল করে নেওয়া হলো।”
অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগকারীর দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিন নেতা।
ইউসুফ আলী ভূইয়া, সভাপতি, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি “এসব মিথ্যা অভিযোগ। আমরা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকেই ভাড়া নিয়েছি, মেয়াদ থাকা চার মাসের জন্যই নিয়েছি।”
লুৎফর রহমান আব্দু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি“আমরা কিছু দখল করিনি। ছয় মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছি। তাছাড়া টিপু আওয়ামী লীগ করেন। প্রয়োজনে নির্বাচনের পর দোকান ফেরত দেব।”
কালাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা যুবদল “একটা ভুয়া নিউজ তৈরি করা হয়েছে। টিপু ভাইয়ের সম্মতিতেই দোকান নিয়েছি।”
থানার ওসির বক্তব্য
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার মো. নাসির উদ্দিন বলেন— “আমি জানি দোকান ভাড়া দিয়ে তালা খুলে দিয়েছেন। দখল হয়েছে কিনা—জানি না।”








Discussion about this post