নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১১ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী শিশু সাকিব শিকদার হত্যার ২০ মাস পর অবশেষে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনাটির মূল আসামি সিয়াম (১৯)–কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আদালতে হাজির করার পর সে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই জানায়, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বান্টিবাজার এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম স্বীকার করে—গত বছর ৪ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘুড়ির সুতা ও ব্লেড কেনা নিয়ে সাকিবের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সিয়াম ধাক্কা দিলে সাকিব মাটিতে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আতঙ্কিত হয়ে সিয়াম লাশটি চাচার গোয়াল ঘরে নিয়ে গিয়ে নীল পলিথিনে মুড়িয়ে লুকিয়ে রাখে।
অপরাধ গোপন করতে সে রাতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে নিজেও সাকিবকে খোঁজার অভিনয় করে। পরে গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে সাড়ে ৩টার দিকে লাশটি গোয়ালঘর থেকে সরিয়ে বাইরে এক কোণায় রেখে দেয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা লাশটি খুঁজে পায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে আড়াইহাজার থানার বড়বাড়ি এলাকা থেকে সাকিব নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রহস্যজনক এই মৃত্যুর তদন্তে শুরু থেকেই পিবিআই যুক্ত ছিল।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, পারিবারিক তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য বিশ্লেষণে সিয়ামের প্রতি সন্দেহ বাড়তে থাকে। তাকে নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেয়। তদন্তে এটিও নিশ্চিত হয় যে, হত্যার পর সিয়াম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে পরিবারকে দিকভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
আদালত পিবিআইর আবেদন মঞ্জুর করে সিয়ামের পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। রিমান্ডে নতুন পাওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করছে তদন্ত দল।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, “পরিবারের সহযোগিতা ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিতে পেরেছি। খুব শিগগিরই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।









Discussion about this post