নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়ন বঞ্চিত তিন নেতার কর্মী-সমর্থকরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে সমাবেশে পরিণত হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে এ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর তিন নেতা—কেন্দ্রীয় সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার—ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রায় এক মাস ধরে মিছিল, সভা-সমাবেশ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
তাদের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে যাঁর শক্ত সম্পর্ক রয়েছে, এমন কাউকেই বিএনপির প্রার্থী করা উচিত। মনোনীত প্রার্থীর ওপর নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট তৈরি হলে নির্বাচনী মাঠ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মিরাজুল হাসান নয়ন মোল্লা বলেন,
“নারায়ণগঞ্জ-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। অতীতে তিনবার বিএনপির প্রার্থী এখানে জয় পেয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর নজরুল ইসলাম আজাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা কমে গেছে। তার জনপ্রিয়তা খুবই কম—এমনকি সাধারণ ভোটাররাও তাকে ভয় পান। তার মনোনয়ন বহাল থাকলে আসনটি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।”
উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলী আজগর জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। দল যদি তৃণমূলের মতামত বিবেচনা না করে, তাহলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে নেতাকর্মী ও ভোটারদের তোপের মুখে আজাদ।”
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের দাবি বিবেচনা করে মনোনয়ন স্থগিত করে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন—এ প্রত্যাশায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে ঘিরে তৃণমূলের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বেড়ে যাওয়ায় আসনটিকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে।









Discussion about this post