নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে তেল চুরির বহুল আলোচিত সিন্ডিকেট ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চট্টগ্রামে কোটিপতি সিবিএ নেতা ইয়াকুব গ্রেপ্তারের পর এবার একই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিচিত জয়নাল আবেদীন টুটুল গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন গুঞ্জনে উত্তাল পুরো জেলা। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, জয়নাল আবেদীন টুটুল ওরফে ব্রাজিল বাড়ির টুটুল গ্রেফতারের কোন খবর তাদের জানা নাই।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ওসমান পরিবারের ছাত্র ছায়ায় থেকে টুটুল তেল চুরির বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। থানা পুলিশ থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে চলে তেল চুরির মহোৎসব। শ্রমিক (লেবার) পরিচয় থেকে উঠে এসে অল্প সময়েই শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যান টুটুল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ডিপো, পরিবহন ও সরবরাহ লাইনের একাধিক স্তরে ছিল এই সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থান। রাতের আঁধারে তেল সাইফন, কাগজপত্রে জালিয়াতি, অতিরিক্ত ডেলিভারি দেখিয়ে তেল সরানো—এসব পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ভাষ্য, প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
টুটুল গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়ানোর পরপরই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি অবশেষে এই তেল চুরির সিন্ডিকেট ভাঙতে শুরু করেছে ? নাকি আগের মতোই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সব ধামাচাপা পড়বে ?
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একটি সূত্র জানায়, তেল চুরির পুরনো অভিযোগগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, গুঞ্জন নয়—স্বচ্ছ তদন্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে নারায়ণগঞ্জকে তেল চুরির অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়ে থাকা সত্য কত দ্রুত আইনের আলোয় আসে।
এমন গুঞ্জনের পর ব্রাজিল বাড়ির জয়নাল আবেদীন টুটুলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, ‘টুটুলের জন্য উচ্চ পর্যায়ের অসংখ্য তদবির করার প্রভাবশালী লোকজন আছেন। একই সাথে মুহূর্তের মধ্যে টুটুল ছাড়া পেতে কোটি টাকা ব্যয় করতেও দ্বিধা করবে না। অতএব ইয়াকুব কারাগারে গেলেও টুটুল কে কারাগারে পাঠাতে হলে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনা জরুরি প্রয়োজন, নইলে টুটুলকে আটকে রাখা কঠিন।’









Discussion about this post