নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলার পলাতক আসামি নূর ছালাম ওরফে ‘বোবা ডাকাত’ (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর নুরবাগ এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, নূর ছালামের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেলেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হয় কিশোর মো. ছায়েদুল। এ ঘটনায় নিহতের বোন রেহেনা বেগম বাদী হয়ে যে হত্যা মামলা দায়ের করেন, সেখানে নূর ছালাম এজাহারভুক্ত আসামি।
নূর ছালাম শুধু একটি হত্যা মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাই। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহ জালাল বাদলের বাবা—যা স্থানীয়ভাবে তাকে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে নূর ছালাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। প্রকাশ্যে কথা বলতে না পারলেও, তার কথাবার্তা ও আচরণে নিষ্ঠুরতার কারণে এলাকাবাসী তাকে ‘বোবা ডাকাত’ নামে ডাকতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নূর ছালামের গ্রেপ্তার শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি ক্ষমতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও অভিযুক্ত হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাগুলো আইনশাসন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
পুলিশ বলছে, চলমান মামলাগুলোর তদন্তে নূর ছালামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি প্রভাবশালী অপরাধ বলয়ের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হতে পারে।









Discussion about this post