🔴 এক্সপোজে | বহিরাগতদের দখলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক | নারায়ণগঞ্জ
প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ—ব্যবসা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যার আলাদা গুরুত্ব। অথচ এই জেলার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব কি নারায়ণগঞ্জবাসীর হাতেই আছে ? মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ বলছে, বাস্তবতা ঠিক উল্টো।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে স্থায়ী বাসিন্দা ও স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রায় শূন্য। ভিন্ন জেলা থেকে আগত কিছু ব্যক্তি এখন পুরো সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করছেন—যাদের অনেকেই নিজ নিজ পৈতৃক এলাকায় রাজনৈতিকভাবে অপরিচিত।
🔍 স্থানীয়রা বাদ, বহিরাগতরাই ‘সিদ্ধান্তদাতা’
অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগত নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছেন। এর ফলে—
মাঠে কর্মী নেই
সভা–সমাবেশে লোক জড়ো হয় না
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাংগঠনিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন
দল চলে কেবল ‘নামকাওয়াস্তে নেতৃত্বে’
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষায়, “নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন ওয়ান ম্যান শো নির্ভর একটি খোলস।”
🧩 মহানগর বিএনপি কার হাতে ?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই পদে থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় নন—
আহ্বায়ক: সাখাওয়াত হোসেন খান — মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা
সদস্য সচিব: আবু আল ইউসুফ খান টিপু — চাঁদপুরের মতলবের বাসিন্দা
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের দুজনেরই নারায়ণগঞ্জে কোনো বংশগত সামাজিক ভিত্তি নেই। ধর্মীয় উৎসবসহ গুরুত্বপূর্ণ সময় তারা এখনো নিজ নিজ পৈতৃক এলাকায় কাটান।
🕵️♂️ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুবদল নেতাদের পৈতৃক ঠিকানা কোথায় ?
মহানগর বিএনপির আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ—
শাহ ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন — কুমিল্লা
সরকার হুমায়ুন কবির — নরসিংদী
যুবদল আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল — চাঁদপুর
অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই নিজেদের পৈতৃক পরিচয় আড়াল করে ‘স্থানীয় নেতা’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
🏚 জেলা বিএনপিতেও বহিরাগত আধিপত্য
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদ বরিশালের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করলেও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেননি বলে অভিযোগ।
একইভাবে—
যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব — চাঁদপুর (মতলব)
নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা দাবি করলেও সেখানে পারিবারিক বসতভিটার অস্তিত্ব নেই—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের
⚠️ ফতুল্লা থানা বিএনপি: নেতৃত্ব সংকটে সংগঠন ভঙ্গুর
ফতুল্লা থানা বিএনপির—
সভাপতি: শহিদুল ইসলাম টিটু — নোয়াখালী
সাধারণ সম্পাদক: বারী ভুঁইয়া — কুমিল্লা
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বহিরাগত ও বিতর্কিত আচরণের কারণে এই দুই নেতার নেতৃত্বে থানা বিএনপি কার্যত অচল। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তাদের নেতৃত্বে কাজ করতেই আগ্রহী নন।
🗣 সমালোচনার জবাবে উল্টো কটাক্ষ ! হুমকি ও মামলার ঘটনাও ঘটনায়
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—বহিরাগত নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা ও আদিবাসীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এতে ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ, প্রভাব খাটানো ও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগও উঠছে—যা নিয়েও রয়েছে চাপা ক্ষোভ ।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে নাসিক নির্বাচনে ওসমান পরিবারের অর্থায়নে নির্বাচন করাসহ এমন বহিরাগত বিষয়ক প্রশ্ন করার ক্ষোভে একজন গণমাধ্যম কর্মীর বিরুদ্ধে অত্যান্ত কৌশলে বিএনপির নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপির একজন আইনজীবী নেতা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে হয়রানীর ঘটনা ঘটায়। সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যসহ পূর্ব শত্রুতার জেরে বহিরাগত এমন নেতারা নানাভাবে আদালত প্রঙ্গণে টর্চার সেলে মব সৃষ্টিসহ হয়রানীর ঘটনাও ঘটায় বলেও নেতাদের বিরুদ্ধে জোড়ালো অভিযোগ তুলেন কেউ কেউ। যা এখনো ব্যাপকভাবে সমালোচিত। অসংখ্য হয়রানীর ঘটনার কারণেই নামধারী এমন অপরাধ প্রবণ নেতাদের হাজারো অপরাধের ব্যাপক গুঞ্জন উঠলেও গণমাধ্যমকর্মীরা নেতাদের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস করে না।
❗ মাঠপর্যায়ের স্পষ্ট দাবি
নেতাকর্মীদের একক দাবি— “নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে বাঁচাতে হলে বহিরাগত, কর্মীশূণ্য ও ওয়ান ম্যান শো নির্ভর নেতৃত্ব সরিয়ে
স্থানীয়, জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে।
না হলে এই জেলার রাজনীতিতে বিএনপি আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।”
📌 এক্সপোজে চলমান…
পরবর্তী পর্বে আসছে—
➡️ বহিরাগত নেতৃত্ব কার আশীর্বাদে টিকে আছে
➡️ কেন্দ্রীয় প্রভাব বনাম স্থানীয় ভোটব্যাংক
➡️ তৃণমূলের ক্ষোভ কতটা বিস্ফোরণমুখী ?









Discussion about this post