নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এক মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিল তিনটি প্রাণ, আবারও প্রশ্ন তুলল মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
নিহতরা হলেন—নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মুন্সিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিন আহমেদ (২১), একই এলাকার জামাল হোসেন (৩৮) এবং আলাউদ্দিন (২৮)। আহতদের মধ্যে প্রাইভেটকারের যাত্রী রাকিবুল ইসলাম (২৫) ও চালক জব্বার মিয়া (৪৫) রয়েছেন। তারা বর্তমানে স্থানীয় ইউএস-বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার মহাসড়কের কর্ণগোপ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির সিলেটগামী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। প্রচণ্ড ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ এলাকায় প্রায়ই দ্রুতগতির ট্রাক ও ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল দেখা যায়। কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রশাসনের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে স্পিড নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক নজরদারি ও লেন ব্যবস্থাপনা জোরদার না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে। বিশেষ করে সকাল ও রাতের সময়ে ভারী যানবাহনের গতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একটি তরতাজা তরুণ প্রাণ, একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ—এভাবে সড়কে ঝরে যাওয়া প্রাণগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি মৃত্যু সমাজের জন্য গভীর ক্ষতি। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post