নিজস্ব প্রতিবেদক :
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বহিষ্কার তালিকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের নাম থাকায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী দুই নাম
নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও প্রভাবশালী একটি নাম। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দলীয় রাজনীতি ও স্থানীয় সাংগঠনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে শিল্পপতি শাহ আলম অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেওয়া এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ভিন্নমত পোষণের অভিযোগে এই দুই নেতার বহিষ্কার বিএনপির নারায়ণগঞ্জ ইউনিটে নেতৃত্বের শূন্যতা ও পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন তুলছে।
জোট রাজনীতি ও মনোনয়ন জটিলতা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয়। এ আসনে জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে দলীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নেয়, যার ধারাবাহিকতায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।
রাজনৈতিক বার্তা কী?
বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমের মতো পরিচিত মুখদের বহিষ্কার করে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী বা সাংগঠনিক তৎপরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে জোট রাজনীতিতে শরিক দলের আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দলীয় শৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কৌশলও এতে স্পষ্ট।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই বহিষ্কার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করবে, নাকি নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ খুলে দেবে? আসন্ন নির্বাচনের মাঠেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।








Discussion about this post