📰 বিশেষ প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত বেগম খালেদা জিয়া
ঢাকা থেকে : গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ৩টা ৪ মিনিটে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের বৃহত্তম এই জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহবাহী গাড়ি চন্দ্রিমা উদ্যানের উদ্দেশে যাত্রা করলে চারপাশে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চন্দ্রিমা উদ্যানে পৌঁছালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলের করুণ সুরে শেষ বিদায় জানানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।
দাফন প্রক্রিয়ায় তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্য, বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৮০ বছর বয়সে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
🕯️ শোকবার্তা
এক আপসহীন নেত্রীর বিদায়
গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক বৈরিতার মুখেও যিনি কখনো মাথা নত করেননি, সেই সাহসী নেত্রীর বিদায় দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি যে নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন মনোভাব, গণতন্ত্রে বিশ্বাস ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ইতিহাসে তিনি বেঁচে থাকবেন এক সাহসী, সংগ্রামী ও অদম্য নেত্রী হিসেবে।
📝 সম্পাদকীয় ভাষ্য
এক অধ্যায়ের অবসান, ইতিহাসের নীরব সাক্ষী
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর বিদায় নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক শক্তিশালী অধ্যায়ের অবসান। সামরিক শাসন-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি বাঁকে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নাম।
ব্যক্তিগত শোক, দীর্ঘ রোগভোগ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে সরে যাননি। ক্ষমতার শীর্ষে যেমন তিনি দৃঢ় ছিলেন, তেমনি বিরুদ্ধ সময়েও ছিলেন অবিচল। তাঁর নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিকে দিয়েছে স্পষ্ট দ্বিধাহীনতা ও প্রতিরোধের ভাষা।
চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামীর পাশে তাঁর চিরনিদ্রা যেন ইতিহাসের এক নীরব কিন্তু গভীর বার্তা—সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। ভবিষ্যৎ রাজনীতি তাঁর কাছ থেকে শিখবে দৃঢ়তা, ত্যাগ ও আপসহীনতার পাঠ। ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া থাকবেন এক অনিবার্য অধ্যায় হয়ে।









Discussion about this post