নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিদ্ধিরগঞ্জে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক দুই যুবক নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়—বরং ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক পথচারীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলতে গেলে আশপাশের লোকজন সন্দেহ করে বাধা দেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আটককৃতরা হলেন—শরিয়তপুরের নরিয়া থানার উপশি গ্রামের মৃত সিকান্দার আলীর ছেলে সুমন মিয়া (৪২) এবং গাজীপুরের কালিগঞ্জ থানার কলাপাটুয়া এলাকার মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে হাছান মোহাম্মদ হৃদয় (৩০)।
তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাই ও অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহতাব বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৪-৫ জন এক ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের ধরে গণধোলাই দেয়। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি এবং একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।”
ভুয়া ডিবির নামে মহাসড়কে রাজত্ব
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতি চালিয়ে আসছে।
তারা সাধারণত প্রাইভেটকার ব্যবহার করে, কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো পোশাক পরে, আবার কখনো নিজেদের কাছে ওয়াকিটকি বা হ্যান্ডকাফ থাকার ভান করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব চক্র মানুষকে গাড়িতে তুলে মারধর করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় কিংবা স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অপমান বা ভয়ের কারণে থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত ভয়ংকর প্রবণতা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়, পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু দুইজনকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই চক্রের পেছনে কারা রয়েছে, কোথা থেকে তারা পরিচালিত হচ্ছে এবং কতজন সদস্য এতে জড়িত—তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনসচেতনতার আহ্বান
সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিলে সঙ্গে সঙ্গে পরিচয়পত্র যাচাই, থানায় যোগাযোগ বা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা জরুরি। একই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও নিয়মিত টহল জোরদার না হলে মহাসড়কে ভুয়া ডিবির দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সিদ্ধিরগঞ্জের এই ঘটনাটি যেন কেবল একটি খবর হয়ে না থাকে—বরং ভুয়া গোয়েন্দা পরিচয়ে চলমান অপরাধচক্র ভাঙতে প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হয়ে ওঠে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।









Discussion about this post