নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন অক্টোঅফিস ও মাসদাইর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।
বিশেষ করে রাত বাড়লেই এই এলাকায় রিকশার যাত্রী, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা হয়ে পড়েন ছিনতাইকারীদের সহজ লক্ষ্য।
সর্বশেষ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে চারজন ছিনতাইকারী আটক হলেও, এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন—এটি কি স্থায়ী সমাধানের সূচনা, নাকি সাময়িক স্বস্তি ?
গভীর রাতে ধাওয়া, অস্ত্রসহ আটক
ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাত আনুমানিক ২টার দিকে অক্টোঅফিস এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয়দের ধারাবাহিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ একটি ৭–৮ সদস্যের ছিনতাইকারী দলের উপস্থিতি টের পায়। পুলিশ দেখে দলটি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে চারজনকে দেশীয় ধারাল অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—জিয়া, সালাম, আরাফাত ও সিরাজুল ইসলাম। তবে দলের বাকি সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সীমিত নজরদারি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, চাষাঢ়া থেকে পাগলা পর্যন্ত সড়ক এবং মাসদাইর এলাকায় রাত ১১টার পর কার্যত ছিনতাইকারীদের দখলে চলে যায়।
একাধিকবার থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও নিয়মিত টহল ও দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতির অভাবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়রা মনে করেন, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ফাঁকা সড়ক এবং পুলিশের অনিয়মিত নজরদারিই ছিনতাইকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
বড় প্রশ্ন : মূল চক্র কোথায় ?
চারজন আটক হলেও অনুসন্ধানে উঠে আসছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক—ছিনতাই কি কেবল বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের অপরাধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত চক্র? স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব এলাকায় ছিনতাইকারীরা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে সক্রিয় থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা বেছে নেয়। এতে সন্দেহ জাগে, কোথাও না কোথাও তাদের চলাফেরা সম্পর্কে আগাম তথ্য ও সহায়তা রয়েছে কি না।
আইনগত ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এখানেই শেষ নয়। তারা চান—নিয়মিত রাতকালীন টহল
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট
পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার
ছিনতাইয়ের পেছনের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক উন্মোচন।
উপসংহার
ফতুল্লায় গভীর রাতের এই অভিযান নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে অভিজ্ঞতা বলছে, বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তার দিয়ে ছিনতাইয়ের মতো সংগঠিত অপরাধ দমন সম্ভব নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে সমন্বিত পুলিশি উদ্যোগ। না হলে ফতুল্লার রাস্তায় রাত নামলেই আবারও ফিরতে পারে ছিনতাইকারীদের দাপট—এই আশঙ্কা এখনো কাটেনি।









Discussion about this post