স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ
দেশের স্বাধীনতার পর থেকে নানা কারনে নানা সময়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজনীতিবিদদের একজন মোহাম্মদ আলী।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই নেতা কখনো প্রশংসিত হয়েছেন কৌশলী ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে, আবার কখনো চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছেন নানা কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের কারণে।
সর্বশেষ গ্যাস বিল বকেয়ার ঘটনায় তার রাজনৈতিক অবস্থান ও নৈতিকতা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় নারায়ণগঞ্জ-৪
(ফতুল্লা) আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।
কী কারণে মনোনয়ন স্থগিত
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, মোহাম্মদ আলীর মালিকানাধীন রি-রোলিং শিল্প কারখানার বিরুদ্ধে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। সরকারি পাওনা পরিশোধ না থাকায় নির্বাচন আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিকেল ৪টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।
আপিলের সুযোগ থাকছে
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। ফলে মোহাম্মদ আলীর সামনে আইনি ও প্রশাসনিক সুযোগ এখনো খোলা থাকলেও বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও বিতর্ক
মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন কোনো নাম নন। বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন এবং কৌশলী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা।
তবে সমালোচকরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রশাসনিক জটিলতা, ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোই আদালতে নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে বা প্রমাণিত হয়নি, তবু সামগ্রিকভাবে বিতর্ক তার রাজনৈতিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
নৈতিকতার প্রশ্নে রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারি গ্যাস বিল বকেয়া থাকা কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক নৈতিকতার সঙ্গেও যুক্ত।
একজন জনপ্রতিনিধি হতে আগ্রহী ব্যক্তির কাছ থেকে রাষ্ট্রের পাওনা পরিশোধে উদাসীনতা ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
নারায়ণগঞ্জের এক সিনিয়র রাজনৈতিক
বিশ্লেষক বলেন,
“মোহাম্মদ আলী অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। কিন্তু এ ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তার দূরদর্শী ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর এবং যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণের আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে।
সামনে কী
মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন স্থগিত থাকায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আপিলে তিনি কতটা সফল হন এবং গ্যাস বিল সংক্রান্ত জটিলতা কত দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারেন—তার ওপরই নির্ভর করছে এই আসনে তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ।
তবে আপিলের ফল যাই হোক, গ্যাস বিল বকেয়ার ঘটনা মোহাম্মদ আলীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন করে বিতর্কের অধ্যায় যোগ করল—যা ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post