নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা) আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষ হলেও প্রশ্ন শেষ হয়নি—বরং নতুন করে শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত তালিকায় ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত ও সাবেক শীর্ষ নেতারা, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ‘স্বতন্ত্র’ ব্যানারে মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক মনোনয়ন যাচাই নয়; বরং দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে বিদ্রোহী রাজনীতির এক সুপরিকল্পিত প্রত্যাবর্তন।
বহিষ্কৃতদের বৈধতা: আইনি প্রক্রিয়া, না কি রাজনৈতিক বার্তা ?
বিএনপির নির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত মোহাম্মদ শাহ আলম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন—দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বৈধ পেয়েছেন। অথচ দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এখনো বহাল।
প্রশ্ন উঠছে—
# দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কীভাবে একই রাজনৈতিক বলয়ের ভোটব্যাংক ব্যবহার করে নির্বাচনে নামার সুযোগ পাচ্ছেন তারা ?
# এটি কি দলের ভেতরের দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে ভোটের মাঠে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন ?
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, “দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র হয়ে দাঁড়াচ্ছেন—এটি এখন কৌশল, ব্যতিক্রম নয়।”
বিদ্রোহী প্রার্থীর ভিড়: আদর্শ নয়, হিসাবের রাজনীতি
বৈধ ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়—
# সাবেক এমপি,
# বহিষ্কৃত নেতা,
# একাধিক দল ঘুরে আসা রাজনীতিক,
# এবং আদর্শিক রাজনীতির বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রার্থিতা।
বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অতীতে বিএনপির হয়ে সংসদে গেলেও এবার তিনি বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী—যা স্থানীয় রাজনীতিতে ‘দল বদল’ নয়, বরং ‘ক্ষমতা টিকে থাকার লড়াই’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বাতিল মনোনয়ন বনাম বৈধ বিদ্রোহ: দ্বিচারিতার অভিযোগ
পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তুলনামূলকভাবে ‘কারিগরি ত্রুটি’ দেখিয়ে—
# সম্পদের তথ্য অসম্পূর্ণ,
# হলফনামায় স্বাক্ষর নেই,
# গ্যাস বিল বকেয়া,
# ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতা।
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
তুচ্ছ প্রশাসনিক ত্রুটিতে প্রার্থী বাদ, অথচ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও বহিষ্কৃতদের জন্য দরজা খোলা—এটি কি সমতার নীতি ?
একজন বাতিল হওয়া প্রার্থীর আইনজীবী বলেন, “নির্বাচনী আইনের প্রয়োগে এক ধরনের নমনীয়তা ও আরেক ধরনের কঠোরতা—এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
নির্বাচন নাকি ক্ষমতার পুনর্দখল ?
ফতুল্লা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একই মুখ, একই গোষ্ঠী ও একই প্রভাবশালী বলয়ের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এবারের মনোনয়ন তালিকা সেই অভিযোগকেই যেন আরও দৃশ্যমান করল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষায়—
“এটি আদর্শের নির্বাচন নয়, এটি পুরনো শক্তির নতুন রূপে ফেরার চেষ্টা।”
সামনে কী ?
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে—
# এই নির্বাচন হবে বিদ্রোহী বনাম বিদ্রোহীর লড়াই,
# দলীয় প্রতীক নয়, মুখই হবে মূল ফ্যাক্টর,
# আর ভোটাররা পড়বেন পুরনো প্রশ্নের মুখে—‘বিকল্প কোথায় ?’
ফতুল্লার ভোটের মাঠে তাই আজ সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা কোনো ফল নয়, বরং গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা।









Discussion about this post