নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের তালিকা অনেকটাই স্পষ্ট হলো, অন্যদিকে তেমনি আইন ও বিধিবিধান মানার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের বার্তাও উঠে এলো।
মোট ৫৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪০টি বৈধ এবং ১৭টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে স্থগিত থাকা চারটি মনোনয়নপত্রও পরবর্তীতে আইনানুগভাবে বৈধতা পেয়েছে।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
হলফনামা ও ভোটার স্বাক্ষরেই যত জটিলতা
যাচাই-বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে হলফনামা সংক্রান্ত ত্রুটি ও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে। প্রায় প্রতিটি আসনেই এই দুটি কারণেই একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কোথাও তথ্য গোপন, কোথাও স্বাক্ষর না থাকা, আবার কোথাও ঋণ খেলাপি কিংবা সরকারি বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সর্বাধিক পাঁচটি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দলীয় ও স্বতন্ত্র—দু’পক্ষেই বাদ পড়া
মনোনয়ন বাতিলের তালিকায় যেমন রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ব্যক্তিরাও। দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকা, প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীর তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা কিংবা ঋণ খেলাপির মতো কারণগুলো দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও ছাড় পায়নি। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের কড়া নজর, আপিলের সুযোগ খোলা
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করতে পারবেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন ইলেক্টোরাল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনকালীন সময়েও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
নির্বাচনী বার্তা
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের এই চিত্র নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের সতর্ক বার্তা দিচ্ছে—আইন ও নিয়মের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী বৈধতা নিশ্চিত করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রার্থীদের জন্য এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, কাগজপত্রের সামান্য ত্রুটিও বড় রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।
এখন আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের নির্বাচনী লড়াই আরও পরিষ্কার রূপ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post