নগর প্রতিনিধি :
গাজীপুর নগরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
তবে রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখাল এলাকায়, বাসন থানার আওতাধীন স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এনসিপি নেতা হাবিব চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণ বাউগা গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি প্রয়াত ফটিক চানের ছেলে এবং বর্তমানে গাজীপুরের মোগরখাল এলাকায় বসবাস করছেন। হাবিব চৌধুরী এনসিপির গাজীপুর মহানগর কমিটির সদস্য।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হাবিব চৌধুরী তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। সেই সূত্র ধরে সকালে দুইজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি দেখতে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মোটরসাইকেলটি পর্যবেক্ষণের পর এক পর্যায়ে একজন মোটরসাইকেল চালু করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় অপর ব্যক্তি হাবিব চৌধুরীর কাছে এসে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি ছোড়েন।
হাবিব চৌধুরী মোটরসাইকেলের পেছনে দৌড় দিলে তাকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি করা হয়। তবে কোনো গুলি তার শরীরে লাগেনি। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
হাবিব চৌধুরী বলেন, “মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তারা দেখা করে। একজন টেস্ট করার কথা বলে গাড়ি চালু করে নেয়, আর অন্যজন হঠাৎ আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই।”
এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা দাবি করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী আলী নাছের খান বলেন,
“ট্র্যাপ সাজিয়ে জুলাই যোদ্ধা হাবিব চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুলি লাগলে তিনি শহীদ হাদির মতো শহীদ হতেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা এখনো নিরাপদ নয়। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।”
তিনি ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গুলির খবর পেয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ একটি গুলির খোসা উদ্ধারের দাবি করেছে এবং ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এমন ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন মাধ্যমে পণ্য বিক্রির নামে সংঘটিত অপরাধ ঠেকাতে আরও সতর্কতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার দাবি উঠেছে।









Discussion about this post