নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পিতা এবং সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযোগপত্র না দেওয়ায় তিনি বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও রাষ্ট্রের সদিচ্ছা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৪ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে রফিউর রাব্বি বলেন, একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত হলেও ত্বকী হত্যার ক্ষেত্রে শততম ধার্য তারিখ পার হয়ে গেলেও তদন্ত সংস্থা অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এতে তিনি বিচার প্রক্রিয়ার বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সরকার পরিবর্তনের পরও সেই অবস্থার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তার ভাষায়, “আগে যেভাবে বেছে বেছে বিচার হতো, এখনও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।”
রফিউর রাব্বি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকী হত্যার বিচার কার্যত বন্ধ ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ১৭ মাসে অভিযোগপত্র নিশ্চিত করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই দীর্ঘ বিলম্বে আসলে কার লাভ হচ্ছে ?
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে, বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও তা দমনে সরকারের কার্যকর ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি ত্বকী হত্যা ছাড়াও সাংবাদিক সাগর-রুনি, কলেজছাত্রী তনু এবং নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, ভুলুসহ অন্যান্য আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দিপু, সুজনের জেলা আহ্বায়ক ধীমান সাহা জুয়েলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা সবাই ত্বকী হত্যার দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার শুরুর জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দাবি তোলেন।









Discussion about this post