নগর প্রতিনিধি :
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে আয়োজিত গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমানের বক্তব্য ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে ধর্ম, সংবিধান ও গণভোটের বিষয়টি এক করে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জুয়েল আরমান বলেন, গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর নাম’ বিজয়ী হবে।
অন্যদিকে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর নামে শুরু করলাম’—এ অংশ পরাজিত হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি উপস্থিত ভোটারদের ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দিলে ধানের শীষ ভোট পাবে।”
এ সময় তিনি ফতুল্লা চার আসনের ভোটারদের উদ্দেশে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠানে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়টি ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
কেউ কেউ বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে গণভোটের প্রক্রিয়া ও বিষয়বস্তুর বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও স্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশিত।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে গণভোটের ভোটের আহ্বান জানানো নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
তাদের মতে, গণভোট একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা জুড়ে দিলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
ধর্ম ও ‘না’ ভোটের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।









Discussion about this post