নগর প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গণভোটকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ চলাকালে প্রকাশ্যে চাপাতি নিয়ে একজন যুবকের অনুসরণ—এই ঘটনা নিছক ‘বিচ্ছিন্ন’ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে—কে ওই যুবককে অস্ত্র হাতে মাঠে নামাল ? কার নির্দেশে একজন সংসদ প্রার্থীকে অনুসরণ করা হলো ? আর প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল ?
সন্দেহজনক অনুসরণ, প্রকাশ্যে অস্ত্র
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় আব্দুল্লাহ আল আমিনের পেছনে পেছনে এক তরুণকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করতে দেখা যায়। সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার জামার নিচ থেকে বড় ধরনের ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আটক যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে এনসিপির ছাত্র-উইং ‘ছাত্রশক্তি’র মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ সরকার (২১) ও ফতুল্লা থানা কমিটির সংগঠক আবু তাহের (২২) আহত হন।
‘নির্দেশ পেয়েছিলাম’—কিন্তু কার কাছ থেকে ?
জেলা জাতীয় যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রাইসুল ইসলাম বলেন, “আটক যুবক স্বীকার করেছে—এক ব্যক্তি তাকে চাপাতি নিয়ে অনুসরণ করতে বলেছে। কিন্তু সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো রহস্যে ঘেরা। আশ্চর্যের বিষয়, ঠিক তখনই আশপাশ থেকে কয়েকজন যুবক এসে ভিড় জমায়, যা পুরো ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলেই ইঙ্গিত দেয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পশ্চিম দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অস্ত্র নিয়ে অনুসরণ প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র বলেও মন্তব্য করছেন তারা।
প্রার্থীর অভিযোগ : মাঠে নিরাপত্তা নেই
ঘটনা প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আমি ৪০-৫০ জন কর্মী ও স্থানীয় মানুষ নিয়ে গণভোটের পক্ষে গণসংযোগ করছিলাম। একজন তরুণ আমাদের অনুসরণ করছিল। তল্লাশিতে তার কাছে চাপাতি পাওয়া যায়। সে জানায়, তাকে কেউ নির্দেশ দিয়েছে। এই এলাকা সন্ত্রাসী ও মাদকচক্রের নিরাপদ আশ্রয়—এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ।”
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়রা আমাকে দ্রুত গাড়িতে তুলে সরিয়ে নেয়। প্রশ্ন হলো—শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে যদি এমন ঝুঁকি থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ কোথায় ?”
পুলিশ গেল, অভিযুক্ত উধাও !
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন প্রার্থীকে চাপাতি নিয়ে অনুসরণ করার মতো গুরুতর ঘটনার পরও অভিযুক্ত কীভাবে উধাও হয়ে যায়? তাহলে কি কেউ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে?
সহিংস রাজনীতির পূর্বাভাস ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণভোট ঘিরে সহিংসতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রকাশ্যে অস্ত্র, সংগঠিতভাবে লোক জড়ো হওয়া এবং হামলার চেষ্টা—সব মিলিয়ে এটি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ভয়ংকর বার্তা।
ফতুল্লার রাজপথে প্রশ্ন এখন একটাই—
এই চাপাতি কি কেবল একজন যুবকের হাতে ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল আরও বড় কোনো রাজনৈতিক ছক ?









Discussion about this post