নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক—দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ এই মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীবাহী বাস ও পথচারীদের টার্গেট করে প্রকাশ্য ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দিনের পর দিন অভিযোগ, আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চললেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় শেষ পর্যন্ত আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হলো স্থানীয় জনতা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত প্রায় ১১টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার মৃধাকান্দী এলাকায় ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
নিয়মিত ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করে স্থানীয় জনতা।
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ডাকাতদের ব্যবহৃত সেই অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ এসে দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩ নম্বরের ওই অটোরিকশাটি ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে পথচারী ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে আসছিল।
একাধিকবার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
প্রশ্ন উঠছে—এতদিন ডাকাতরা কীভাবে প্রকাশ্যে একই এলাকায় একই কৌশলে অপরাধ চালিয়ে গেল? নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট কিংবা গোয়েন্দা নজরদারি থাকলে এমন পরিস্থিতি কি সম্ভব হতো ?
আটক ডাকাতদের একজন রবিন (কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে) এবং অপরজন ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক (চেঙ্গাকান্দি এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে)।
পুলিশের দাবি, আরও সদস্যকে ধরতে অভিযান চলছে। তবে স্থানীয়দের সন্দেহ—অভিযান কি শুধু “ঘটনার পর”ই সীমাবদ্ধ থাকবে ?
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে।
কিন্তু এই বক্তব্যে জনমনে স্বস্তির চেয়ে প্রশ্নই বেশি—যখন জনতাই ডাকাত ধরিয়ে দেয়, তখন পুলিশের ভূমিকা কোথায় ছিল ?
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটাও স্বীকার করছেন—যখন রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন এমন পরিস্থিতির জন্ম নেয়। এটি কেবল অপরাধ দমনের ব্যর্থতা নয়, বরং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার নগ্ন প্রতিফলন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যদি দিনের পর দিন ডাকাতি চলতে থাকে এবং তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে, তবে তা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—জনতার ক্ষোভ যদি ভবিষ্যতে আরও সহিংস রূপ নেয়, তার দায় কে নেবে? এখনই যদি সোনারগাঁসহ মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ
এলাকাগুলোতে স্থায়ী চেকপোস্ট, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার না করা হয়, তবে এমন “চাঞ্চল্যকর ঘটনা”ই হয়ে উঠবে নিয়মিত খবর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার—নচেৎ জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সমাজকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।









Discussion about this post