প্রধান প্রতিবেদক :
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দুই সন্তানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি দুর্নীতি বিরোধী আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, শামীম ওসমানের সন্তান ইমতিনান ওসমান এবং লাবীবা জোহা অঙ্গনার নামে গত বছরের ২৬ আগস্ট পৃথক দুটি সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা কেউই সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেননি, এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কোনো সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট কী বলছে
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়টি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং অবৈধ সম্পদ অর্জন হয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমনে প্রশ্ন
শামীম ওসমান দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, এটি যদি সত্যিকার অর্থে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের উদাহরণ হয়, তবে তা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আস্থা বাড়াবে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এই মামলা তদন্তের পর কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোবে ?
দুদকের অবস্থান
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্তের মাধ্যমে সম্পদের উৎস ও প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।
সামনে কী
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি নজির হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে জনআস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়ায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








Discussion about this post