নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে এ পর্যন্ত মোট ১১৯ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮২৯ জন শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ৪৭১ জন আহত জুলাইযোদ্ধার মধ্যে ৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা এখনো জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থায়ী ও অস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত, কর্মসংস্থানের সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা—এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রয়োজন থেকেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়।”
তিনি জানান, আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, চাকরি ও স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আবাসনের মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে গবেষণা, তথ্য সংরক্ষণ ও শহীদদের স্মৃতি রক্ষার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ৭ হাজার ৭৬৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, ২০ শতাংশ চাকরিতে যুক্ত হতে চান এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে অতিরিক্ত ২৩৮ কোটি টাকা তহবিল প্রয়োজন বলে জানান ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী।
কামাল আকবর আরও বলেন, “এ পর্যন্ত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৮২ জন আহত জুলাইযোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আওতায় স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, পেশাভিত্তিক পুনঃসংযুক্তি এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি জানান, ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখ টাকা সহায়তার মাধ্যমে ২৩ জন আহত জুলাইযোদ্ধার পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের জন্য ১৫ জন আহত জুলাইযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার সোহেল মিয়া, গণসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান জাহিদ হোসাইন, ভেরিফিকেশন প্রধান আমানউল্লাহ সাকিব, আইটি প্রধান সাকিব হাসান এবং কল সেন্টার প্রধান মাহফুজ।








Discussion about this post