নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ দাখিল করা প্রসিকিউশনের নথি ও ফোনালাপের বিবরণে উঠে এসেছে আন্দোলন দমনে সরাসরি অস্ত্র ব্যবহারের দাবি এবং দলীয় নেতৃত্বকে তা অবহিত রাখার তথ্য।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শামীম ওসমান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যকার একটি ফোনালাপের অংশ উপস্থাপন করা হয়।
সেখানে শামীম ওসমানকে বলতে শোনা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হন এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
ফোনালাপ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সদর এলাকায় অস্ত্র ব্যবহারের পর তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে চিটাগাং রোড এলাকায় যান এবং ওই এলাকা ‘খালি করার’ কথাও উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে অস্ত্র হাতে তার ছবি প্রকাশ পেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন ক্ষুব্ধ না হন—এমন বার্তা ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে পৌঁছানোর অনুরোধ করেন তিনি।
প্রসিকিউটর তামিম শুনানিতে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় একটি ফরমাল চার্জ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে অন্তত ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশু রিয়া গোপও রয়েছে।
গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের হামলায় আহত হন অসংখ্য ছাত্র ও সাধারণ মানুষ।
এই মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ২৬ জানুয়ারি আসামিদের গ্রেপ্তার করে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আন্দোলনের সময় শামীম ওসমান নিয়মিতভাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।
এসব কল রেকর্ড, সিডিআর এবং ফোনালাপের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব তথ্যপ্রমাণ প্রমাণ করে যে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ছিল পরিকল্পিত এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অবগতির মধ্যেই তা সংঘটিত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মামলাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।








Discussion about this post