নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে ঘিরে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো আর নিছক রাজনৈতিক গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ রাজনীতির নৈতিকতা, আইনের শাসন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে একটি গোপন কক্ষে আজাদ তার নিজ নির্বাচনী এলাকার ৪৮ জন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন—এমন তথ্য সামনে এসেছে।
গোপন ওই বৈঠকে দুই পৌর মেয়র, ১০ ইউপি চেয়ারম্যান, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর—এই বৈঠকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়, আজাদের পক্ষে কাজ করলে সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন এবং এলাকায় নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা মিলবে।
এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এটি স্পষ্টভাবে আইনের অপব্যবহার ও ক্ষমতার ভয়ংকর দরকষাকষির ইঙ্গিত দেয়।
যে দল নিজেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরে, সেই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিএনপির জন্যও বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ।
নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক কেলেঙ্কারি, ব্যাংক ও গাড়ি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রচলিত।
প্রমাণের অভাবে কিছু অভিযোগ আইনি রূপ না পেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন কথা নয়। বরং এসব অভিযোগ বিএনপির ভেতর থেকেই নিয়মিত উচ্চারিত হচ্ছে—যা তার রাজনৈতিক চরিত্র ও উত্থানকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—আড়াইহাজারে আজাদের নাম উচ্চারণ করতেই ভীত হয়ে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার প্রভাব এতটাই শক্ত যে গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুসন্ধানে সতর্ক থাকেন।
স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে তিনি যে ভয়ভিত্তিক কৌশল ব্যবহার করছেন, তা অতীতের স্বৈরাচারী প্রভাবশালী রাজনীতিকদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
রাজনীতি যদি আদর্শের বদলে গোপন বৈঠক, ভয়ভীতি ও মামলার দরকষাকষির খেলায় পরিণত হয়, তাহলে গণতন্ত্র কেবল একটি মুখোশে রূপ নেয়। আড়াইহাজারের এই অভিযোগ সেই আশঙ্কাকেই বাস্তব করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব শুধু নীরব থাকা নয়।
ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, বৈঠকের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় দ্রুত তদন্ত করে জনসমক্ষে আনা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে আইনের আওতায় এনে তার অবস্থান স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি।
নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে—আড়াইহাজারে কি নির্বাচনের নামে আবারও অদৃশ্য আঁতাতের রাজনীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে ?








Discussion about this post