সোনারগাঁও প্রতিনিধি :
নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করেই জীবন সংগ্রামে নেমেছিলেন সোহেল (৩০)।
অটোরিকশা চালিয়ে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার একমাত্র স্বপ্ন।
কিন্তু সেই স্বপ্নই থেমে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোচালক সোহেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর উত্তর পাড়া এলাকার একটি রাস্তার ঢাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সোহেল সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অটোরিকশা চালাতেন তিনি। সোমবার দুপুরে নিয়মিত উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও আর ফিরে আসেননি।
গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরদিন সকালে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাই করতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার স্বামীর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অসহায় কণ্ঠে তিনি বলেন,
“প্রতিবন্ধী হয়েও আমার স্বামী পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। এখন দুই মেয়েকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? যারা আমার স্বামীকে শুধু অটোরিকশার জন্য হত্যা করেছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়—এটি একজন সংগ্রামী মানুষের জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন এবং সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।









Discussion about this post