আদালত প্রতিবেদক :
আড়াইহাজারে অপহরণের পর এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ গুমের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ভজন চন্দ্র দাস (২৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা এলাকার নারায়ণ বর্মনের ছেলে সজল বর্মন, একই এলাকার পাগল চান বর্মনের ছেলে সঞ্জিত বর্মন এবং ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার আয়নাল হকের মেয়ে রুমা ও কাদেরের মেয়ে রুমা।
তবে রায় ঘোষণার সময় চারজনই পলাতক ছিলেন।
মুক্তিপণ আদায় করেও হত্যা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকার বাসিন্দা ফনি চন্দ্র দাসের ছেলে ভজন চন্দ্র দাসকে অপহরণ করে আসামিরা।
পরে তার পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ পরিশোধ করা হলেও, ভজনকে আর জীবিত ফেরত দেওয়া হয়নি।
তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ পাওয়ার পরও পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৬ এপ্রিল ভজন চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।
তদন্ত ও বিচার
ঘটনার পর ভজনের বাবা ফনি চন্দ্র দাস আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর রায় দেন।
প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই রায় অপহরণ ও মুক্তিপণসংক্রান্ত অপরাধ দমনে একটি দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে একটি নিষ্ঠুর অপরাধের বিচারিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও, নিহত ভজন চন্দ্র দাসের পরিবারের জন্য এটি শুধুই ন্যায়বিচারের স্বীকৃতি—অপূরণীয় ক্ষতির পূরণ নয়।








Discussion about this post