বিশেষ প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘তাহাজ্জুদ নামাজ’। এক সময় আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জের গডফাদারখ্যাত নেতা শামীম ওসমানের মুখে উচ্চারিত তাহাজ্জুদ নামাজের গল্প যেমন ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল, তেমনি দীর্ঘদিন পর একই নামাজের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক জনসভায় শামীম ওসমান নিজেকে নিয়মিত ৭০ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী হিসেবে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয় এবং তা নিয়ে নানা রম্য আলোচনা, ব্যঙ্গ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। ওই সময় থেকে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক কথাবার্তায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শামীম ওসমান পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে গেলে দীর্ঘদিন তার কোনো বক্তব্য কিংবা তাহাজ্জুদ নামাজ প্রসঙ্গ আলোচনায় ছিল না।
কিন্তু শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে নারায়ণগঞ্জের পাচঁরুখি এলাকায় এক জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাহাজ্জুদ নামাজের প্রসঙ্গ তুলে ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান—এতেই আবারও সেই পুরোনো স্মৃতি ও বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় ফিরে আসে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন ভোটারদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাতে আদায় করে, ভোটকেন্দ্র খোলার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন ও চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দীর্ঘদিন পর হঠাৎ তাহাজ্জুদ নামাজের প্রসঙ্গ কেন রাজনৈতিক বক্তব্যে গুরুত্ব পেল ? আবার কেউ কেউ বলছেন, বহুধর্মীয় সমাজব্যবস্থায় ধর্মীয় আবেগকে ভোটের মাঠে টেনে আনার বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে তারেক রহমানের বক্তব্য শুধু ধর্মীয় আহ্বানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দরিদ্রদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচিসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই ভোটারদের বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের স্লোগান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে বিভ্রান্ত করছে। তিনি এটিকে ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন।
একদিকে পলাতক শামীম ওসমানের বিতর্কিত তাহাজ্জুদ কাহিনি, অন্যদিকে তারেক রহমানের নির্বাচনী আহ্বানে তাহাজ্জুদ নামাজ—এই দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের মিলেই নারায়ণগঞ্জে বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। রাজনীতিতে ধর্মীয় অনুষঙ্গ কতটা প্রভাব ফেলছে এবং ভোটের সমীকরণে তা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরব নগরবাসী।









Discussion about this post