নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুতের গোপন আলোচনা—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওই শেষ পর্যন্ত ফাঁস করে দেয় ভয়ংকর এক চিত্র।
সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা বজলু রহমানকে তিন সহযোগীসহ আটক করেছে র্যাব-১১।
র্যাব জানায়, আটকদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
আটক বজলু রহমান (যাকে এলাকাবাসী ডন বজলু হিসেবে চিনেন) সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।
ডন বজলুর সঙ্গে আটক হয়েছেন উপজেলার নাজমুল হকের ছেলে ইউসুফ ওরফে বাদল (২০), মৃত সাদেক আলীর ছেলে সাইফুল (৩৪) এবং মৃত নূরউদ্দিন আহমেদের ছেলে আব্দুল জব্বার (৪৩)।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ জানুয়ারি রাতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছেন বজলু রহমান ওরফে ডন বজলু।
ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা একজনকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই সময় বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে কানে কানে বলতে শোনা যায়—“নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার।”
এই কথোপকথনের ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওটি ঘিরে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের এমন খোলামেলা আলাপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
ভাইরাল ভিডিওটি আমলে নিয়ে র্যাব দ্রুত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
একপর্যায়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বজলুসহ চারজনকে আটক করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি ভিডিওতে আলোচিত অবৈধ অস্ত্র মজুদের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের যোগান ও মজুদের নেপথ্যের চক্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিও থেকে শুরু হয়ে র্যাবের এই অভিযানে আবারও স্পষ্ট হলো—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধরা পড়া একটি মুহূর্তও কখনো কখনো বড় অপরাধের পর্দা সরিয়ে দিতে পারে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।









Discussion about this post