নিজস্ব প্রতিবেদন :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এখন আর প্রশ্ন নেই কে জিতবে নির্বাচন—প্রশ্ন একটাই, ভোট দিতে পারবে তো মানুষ ?
কারণ, শামীম ওসমান পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া ভয়, ক্যাডার আর দখলদার রাজনীতি এখনো অটুট।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ংকর এক বাস্তবতা—এক সময় আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে যারা খুন, চাঁদাবাজি, লুটপাট চালিয়েছে, তারা আজ নতুন রাজনৈতিক ব্যানারে ফের মাঠে নেমেছে। আদর্শ বদলায়নি, বদলেছে শুধু রঙ।
⚠️ মামলার আসামি, কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামিরা আজ প্রকাশ্যে ফতুল্লায় হাঁটে—তাও জামিন ছাড়াই। বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রশিদ আহমেদ এর অন্যতম উদাহরণ।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে—
# বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৪টি মামলা
# হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৬টি মামলা
তবুও তিনি এলাকায় হুমকি দেন, প্রশাসনের দপ্তরেই ভয় দেখান।
ভোটারদের প্রশ্ন—আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য ?
⚠️ দল বদলের নাটক, অপরাধের দায় মাফ
মনিরুল আলম সেন্টু—এক সময় প্রকাশ্যে শামীম ওসমানকে ‘পীর’ বলে সম্বোধন করেছেন। কোটা আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের’ ডাক দিয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় তাকে বহিষ্কার দেখানো হয়েছিল।
কিন্তু এখন ?
বহিষ্কার তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—খুনের হুমকি দিলে অপরাধ, আর ক্ষমতাবানের পক্ষে থাকলে পুরস্কার ?
⚠️ গডফাদারের সাথে এখনো লাইভ যোগাযোগ
ফেরদাউসুর রহমান—ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি এখনো পলাতক শামীম ওসমান ও তার ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
এক সময় ইসলামী সংগঠনের ব্যানারে নৌকার পক্ষে শোডাউন, এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার।
স্থানীয়রা বলছেন—“ওসমান পালাইছে, কিন্তু তার লোক পালায় নাই।”
⚠️ ভোটের আগেই হুমকি শুরু
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম সরাসরি অভিযোগ করেছেন—ভোটের আগেই সাধারণ মানুষকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
একজন ভোটার বলেন,“আমরা বুঝে গেছি—ভোট মানে শুধু ব্যালট না, সাহসও লাগে।”
⚠️ প্রশাসনের দপ্তরেই হুমকি, তবুও নীরবতা
ইউপি সদস্য হাসনা ভানু অভিযোগ করেন—রশিদ আহমেদ অভিযোগ তুলে না নিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরেই।
প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের ঘরেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, ভোটকেন্দ্রে কী হবে?
⚠️ পুরোনো ত্রাস, নতুন রাজনীতি
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই চক্রটি—
# ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল
# ফেরিঘাট নিয়ন্ত্রণ
# ইটভাটা থেকে চাঁদা
# বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়েছে
সরকার পতনের পর তারা থামেনি—বরং এখন আরও মরিয়া।
🔥 ফতুল্লার ভোটারদের মুখে এখন একটাই কথা
এই নির্বাচন কি জনগণের ভোটে হবে,
নাকি পলাতক গডফাদারের রেখে যাওয়া বন্দুকের ছায়ায় ?
প্রশাসনের নীরবতা এখন আর নিরপেক্ষতা নয়—এটি ভয়ংকর বার্তা।
কারণ, ইতিহাস বলে—
যেখানে অপরাধীরা নিশ্চিন্ত, সেখানে ভোট কখনো স্বাধীন হয় না।








Discussion about this post