নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের সামনে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সোনারগাঁ থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন।
বিএনপির এক প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “যিনি ভালো করে রিডিং পড়তে পারেন না, তিনি সংসদে গিয়ে কীভাবে জনগণের কথা বলবেন?”—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রার্থীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অনেকে বড় বড় কথা বলে। তাদের হাতে একটি কাগজ দিয়ে রিডিং পড়তে বলবেন। যদি পারে, তখন ভোট দেবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়, বরং তা ব্যক্তিগত অবমাননা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
একজন প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার হওয়া উচিত তার নীতি, সততা, রাজনৈতিক দর্শন ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে—পাঠ্যাংশ পড়তে পারার ক্ষমতার ওপর নয়।
সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে একজন রাজনীতিক নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।
কারণ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে সংবিধান ও আইন—কোনো ব্যক্তির মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেওয়া অবমাননাকর মন্তব্য নয়। বরং এ ধরনের মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি উসকে দেয়।
একাধিক রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এতে রাজনৈতিক সহনশীলতা নষ্ট হয় এবং প্রকৃত ইস্যু—উন্নয়ন, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ—আড়ালে চলে যায়।
উল্লেখ্য, ওই সভায় শহিদুর রহমান স্বপন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের পক্ষে ভোট চান এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যের একটি অংশ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—যা নির্বাচনী রাজনীতিতে ভাষার দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।









Discussion about this post