নিজস্ব প্রতিবেদক :
রূপগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঘল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রূপগঞ্জে আপাতদৃষ্টিতে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও এর আড়ালে গোপনে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর গুপ্তহত্যার নেটওয়ার্ক।
একাধিক গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে উঠে এসেছে, প্রকাশ্য সহিংসতার পথ এড়িয়ে পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের নীলনকশা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছেন রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম ওরফে মোঘল।
গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, ঢাকায় আত্মগোপনে থেকেই মোঘল এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা চালাচ্ছেন।
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় তার ক্যাডারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনী পরিবেশে প্রকাশ্য সংঘর্ষ নয়, বরং নীরব আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোটকেন্দ্র ফাঁকা করাই তার মূল কৌশল।
আড়াই শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার, ছোট ছোট ‘কিলিং সেল’
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে তোলা প্রায় আড়াই শতাধিক প্রশিক্ষিত ক্যাডারকে নতুন করে সক্রিয় করেছেন মোঘল। অতীতে যারা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, জমি দখল, নারী পাচার, জুয়া, ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসায় সরাসরি জড়িত ছিল, তারাই এখন আবার মাঠে নামছে। এই বাহিনীকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করে নির্দিষ্ট টার্গেটভিত্তিক অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে।
টার্গেট তালিকায় কারা ?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গুপ্তহত্যার তালিকায় রয়েছেন—
# বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী
# প্রভাবশালী ব্যবসায়ী
#মোঘলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বাদী ও সম্ভাব্য সাক্ষীরা
# অতীতে তার বিরোধিতা করেছেন এমন ব্যক্তিরা
এই হত্যাগুলো প্রকাশ্যে নয়; বরং অনুসরণ, ভয় দেখানো এবং সুযোগ বুঝে নীরবে হামলার ছক কষা হয়েছে।
ঢাকার অপরাধ জগতের সঙ্গে সংযোগ
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে মোঘলের অর্থায়ন ও পরিকল্পনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। একইভাবে জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত মিরপুরের কাউন্সিলর বাপ্পীর সঙ্গেও মোঘলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
একসময় যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে রূপগঞ্জ ও মিরপুরের অপরাধ জগৎ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
অর্থ, নির্দেশনা, কিন্তু সামনে নেই পরিকল্পনাকারী
গোয়েন্দারা বলছেন, বর্তমান মডেল অনুযায়ী মোঘল সরাসরি মাঠে নামছেন না। অর্থ, টার্গেট তালিকা ও নির্দেশনা সরবরাহ করে ভাড়াটে খুনি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে—যাতে মূল হোতা থেকে যান আড়ালে।
ভোট বানচালের ‘নীরব কৌশল’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকাশ্য সহিংসতা না থাকলেও একের পর এক গুপ্তহত্যা এলাকায় এমন আতঙ্ক তৈরি করবে যে ভোটকেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যাবে। এটিই নির্বাচন বানচালের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
বিদেশি ক্যাসিনো, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মোঘলের রয়েছে দুবাইয়ের ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা ও থাইল্যান্ডের ২০ বছরের মাল্টিপল ভিসা। বিপদ দেখলেই দেশ ছাড়ার সক্ষমতা তার রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তিনি ক্যাসিনো খেলেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হারিয়েছেন—যার উৎস রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের ওপর চালানো চাঁদাবাজি, জমি দখল ও টেন্ডারবাজি।
এসবি সূত্র জানায়, তার নামে দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং গত দেড় বছরে তিনি অন্তত ১৭ বার বিদেশ গেছেন। হুন্ডির মাধ্যমে প্রতিবার ১৫–২০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।
আইনের বাইরে কেন মোঘল ?
কাঞ্চন ও রূপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দাদের প্রশ্ন একটাই—এত অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য ও ভয়াবহ পরিকল্পনার পরও কেন মোঘল ধরাছোঁয়ার বাইরে? তার নাম উচ্চারণ করতেই মানুষ ভয়ে চুপ হয়ে যায়। মামলা বাদী ও সাক্ষীরা আজ ঘরবন্দি।
জনগণের দাবি
স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—নির্বাচনের আগে মোঘলকে আইনের আওতায় না আনা হলে রূপগঞ্জে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে বড় ধরনের অঘটন অনিবার্য। এটি শুধু একটি এলাকার নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন এখন একটাই—রাষ্ট্র কি আগেভাগেই এই নীরব সন্ত্রাসের লাগাম টানবে, নাকি ঘটনার পর আবার তদন্তের আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে ?









Discussion about this post