নগর প্রতিনিধি :
ফতুল্লার দেওভোগ নুর মসজিদ এলাকার মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চলেছে—এ তথ্য শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা নজরদারির চরম ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারি গ্রেপ্তার হলেও, এত বড় মাদক মজুদ কীভাবে এতদিন অগোচরে থেকে গেল—সে প্রশ্নের জবাব এখনও অধরা।
গ্রেপ্তার হওয়া জয় মিয়া (২৫) ও মিঠু সরদার (৩৫) কোনো ভাসমান অপরাধী নন; তারা স্থায়ী ঠিকানার বাসিন্দা, স্থানীয়দের পরিচিত মুখ।
অথচ স্থানীয় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা প্রশাসনের চোখ এদের কর্মকাণ্ড এড়িয়ে গেছে দীর্ঘ সময় ধরে।
এতে স্পষ্ট হয়, মাদক ব্যবসা কেবল অপরাধীদের সাহসেই নয়, বরং প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সম্ভাব্য ছত্রচ্ছায়াতেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, তারা “দীর্ঘদিন ধরে” মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ চললেও ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেন কেবল ‘গোপন সংবাদের’ ভিত্তিতে? নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা থাকলে কি এত বড় চালান আগেই ধরা পড়ত না ?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিবারই গ্রেপ্তারের পর ‘গডফাদার ধরার চেষ্টা চলছে’—এই চিরচেনা বক্তব্য। বাস্তবে কতজন গডফাদার ধরা পড়েছে, কতটি চক্র মূল থেকে উপড়ে ফেলা গেছে—তার কোনো দৃশ্যমান হিসাব জনসম্মুখে নেই। ফলে জনমনে দৃঢ় হচ্ছে সন্দেহ—গ্রেপ্তাররা কি কেবল “খুচরা মুখ”, আর মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে ?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও, শুধু মামলা আর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্ব শেষ হলে চলবে না। ফতুল্লার মতো এলাকায় মাদক যেভাবে সামাজিক অবক্ষয়, যুবসমাজ ধ্বংস ও অপরাধ বৃদ্ধির পথ তৈরি করছে—তা ঠেকাতে চাই ধারাবাহিক অভিযান, জবাবদিহি এবং প্রশাসনের ভেতরের গাফিলতির নিরপেক্ষ তদন্ত।
নচেৎ আজ ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার হলেও, কাল হয়তো আরও বড় চালান—আরও ভয়াবহ অপরাধ—এই সমাজকেই তার মূল্য দিতে হবে।









Discussion about this post