নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভয়ংকর বার্তা
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই মৌলিক অধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
‘ধানের শীষে ভোট না দিলে রেহাই নেই’—এমন ভয়াবহ হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং নির্বাচনব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
ভাইরাল ভিডিওতে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন যেভাবে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার তো বটেই, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিরও সরাসরি লঙ্ঘন।
ভোটারদের ‘গোয়েন্দা দিয়ে নজরদারি’, ‘ভোট কোথায় গেছে তা ধরে ফেলা’ এবং ‘নির্বাচনের পর রেহাই না দেওয়ার’ হুমকি নিঃসন্দেহে ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত বিষয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই বক্তব্য কোনো আবেগী স্লিপ নয়, বরং সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ।
ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট আদায়ের এমন প্রচেষ্টা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একজন রাজনৈতিক নেতা যখন প্রকাশ্যে ‘আল্লাহর কসম’ করে হুমকি দেন, তখন তা শুধু ভোটারদের নয়, রাষ্ট্রের আইনকেও তাচ্ছিল্য করার শামিল।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত নেতার ব্যাখ্যা—‘আত্মীয়-স্বজনদের শাসিয়েছি’—এই বক্তব্যকে হালকা করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। প্রশ্ন হলো, আত্মীয়-স্বজন হলেও কি তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় ? আর যদি বক্তব্য নিরীহই হতো, তবে তা কেন জনমনে এত আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি করলো ?
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মন্তব্য যথার্থভাবেই বিষয়টির রাজনৈতিক চরিত্র উন্মোচন করেছে।
হুমকি ও ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করা কোনো গণতান্ত্রিক দলের পরিচয় হতে পারে না। নির্বাচন আরপিও ও প্রচলিত আইন স্পষ্টভাবে বলে—ভোটারকে প্রভাবিত, ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এই আশ্বাস এখন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপে রূপ না নিলে তা অর্থহীন আশ্বাসে পরিণত হবে। শুধু তদন্ত নয়, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন হুমকির রাজনীতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ভোটাধিকার কোনো দলের দয়া নয়—এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারকে ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এই ঘটনা প্রমাণ করে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হুমকির রাজনীতি। এখনই কঠোর অবস্থান না নিলে প্রশ্ন উঠবে—রাষ্ট্র কি সত্যিই তার নাগরিকদের ভোটের নিরাপত্তা দিতে পারছে ?









Discussion about this post