স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে একই চক্র পুনরায় সরকারি সম্পত্তি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা করছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি সরকারি জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
মানবিকতার দোহাই ও অসহায় মানুষের আশ্রয়ের কথা বলে জমি দখলের চেষ্টা চালালেও অন্তরালে রয়েছে আর্থিক স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে তারা পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই মধ্যে গত বছর ২৯ জুলাই ইসদাইর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা মিয়ার টিনশেড ঘর—যা দখল করা সরকারি জমির ওপর নির্মিত—সেখানে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ২০টি বসতঘর পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ও হাজীগঞ্জ স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পরিকল্পিতভাবে জমি দখল ও পুনর্গঠনের পথ সুগম করতেই আগুনের ঘটনাকে ব্যবহার করা হতে পারে।
যদিও আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি, তবুও দখলদার চক্রের অতীত কর্মকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি জমি দখল ও অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে পুরো এলাকা।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।








Discussion about this post