স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ কি কৌশলী অবস্থান বদল, নাকি নির্বাচনী সমীকরণের নতুন চক্রান্ত ?
নিজস্ব প্রতিবেদক :
(নারায়ণগঞ্জ)
একসময় প্রকাশ্যে নিজেকে “ওসমান পরিবারের সৈনিক” হিসেবে ঘোষণা দেওয়া কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা দেলোয়ার হোসেন প্রধানকে এখন দেখা যাচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণা চালাতে।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বন্দরে এক অনুষ্ঠানে দেলোয়ার হোসেন প্রধান প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “আমি কোনো পার্টি বুঝি না… আমি বুঝি কেবল ওসমান পরিবার… আমি ওসমান পরিবারের সৈনিক।” স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই অবস্থান থেকে হঠাৎ পরিবর্তন নিয়ে এখন তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয়—যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর।
মামলা ও বিতর্কের ছায়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় দেলোয়ার প্রধান আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসের পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন—এমন তথ্যও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার প্রধানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে তেল চুরি, ছিনতাই, ভূমি দখল, জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়দের একাংশ।
রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরের ঘাড়মোড়া ও চরঘাড়মোড়া এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে দেলোয়ার প্রধানকে।
এক উঠান বৈঠকে তিনি বলেন,
“আমি আপনাদের ভোটে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছি… যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারা আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।”
ওই বৈঠকে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত একজন নেতার হঠাৎ বিএনপির পক্ষে সক্রিয় হওয়া নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, এটি কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থান বদল; আবার কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে ভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকতে পারে।
‘পুনর্বাসন’ বিতর্ক
বন্দরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে—বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের একটি অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। দেলোয়ার প্রধানের সক্রিয়তা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একইভাবে দেলোয়ার প্রধানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের আগে উত্তাপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থীদের ঘিরে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন বিতর্কিত নেতার ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—এ কি আদর্শগত পরিবর্তন, নাকি কৌশলী অবস্থান ?
নির্বাচনী মাঠে এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে ভোটের দিনই—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।








Discussion about this post