নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিল্প ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ—যেখানে দেশের ৬৩ জেলার মানুষ জীবিকার সন্ধানে এসে বসতি গড়েছেন। কেউ হয়েছেন সফল ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ, কেউ বা পরিশ্রমে গড়েছেন সম্মানজনক অবস্থান।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই সুযোগের শহরেই একটি চক্র অবৈধ পথে দ্রুত বিত্ত ও প্রভাব অর্জনের নেশায় মেতে উঠেছে। মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা সমাজের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
আমলাপাড়ায় অভিযান: ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকাল আনুমানিক ৫:২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন আমলাপাড়া হকার্স মার্কেট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।
অভিযানটি পরিচালিত হয় উপপরিচালক জনাব হুমায়ুন কবির খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পরিদর্শক মোঃ এনামুল হকের নেতৃত্বে।
অভিযানে রতন চন্দ্র দাস (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আসামীর পরিচয়:
নাম: রতন চন্দ্র দাস (২৬)
পিতা: মৃত কৃষ্ণ চন্দ্র দাস
মাতা: মৃত পূর্ণিমা রানী দাস
বর্তমান ঠিকানা: গলাচিপা কলেজ রোড, নারায়ণগঞ্জ সদর
স্থায়ী ঠিকানা: কৃষ্ণপুর (বাজার সংলগ্ন), মুরাদনগর, কুমিল্লা
বিশ্লেষণ : দ্রুত অর্থবিত্তের মোহ ও সামাজিক অবক্ষয়
এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি বড় সমস্যার অংশ। কর্মসংস্থানের সুযোগকে পুঁজি করে যারা শহরে আসে, তাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ দ্রুত অর্থ ও প্রভাবের লোভে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
ইয়াবা ব্যবসা শুধু আইনভঙ্গ নয়—এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, পরিবার ভেঙে দেয় এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। ২০০ পিস ইয়াবা মানে সম্ভাব্য ২০০টি তরুণ জীবনকে বিপথে নেওয়ার প্রস্তুতি।
প্রয়োজন কঠোরতা ও নজরদারি
প্রশাসনের এই অভিযান প্রশংসনীয়। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—মাদকের এই সরবরাহ চক্রের মূল হোতা কারা? কে বা কারা পেছন থেকে এসব ব্যবসা পরিচালনা করছে ?
শুধু খুচরা বিক্রেতা গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন—
# গোটা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা
# অর্থের উৎস অনুসন্ধান
# রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়ের তদন্ত
# নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি
উপসংহার
প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জকে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া যায় না। যারা পেটের দায়ে এসে শহরের সুযোগ নিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়তে চায়—তাদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাই পারে নারায়ণগঞ্জকে আবারও একটি নিরাপদ, কর্মমুখর ও সুস্থ শহরে পরিণত করতে।









Discussion about this post