সোনারগাঁও প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়ন-এর পরমেশ্বরদী এলাকায় নাঈম (২২) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বারদী-তালতলা সড়কের পাশের একটি ফসলি জমি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পথচারীরা একটি পরিত্যক্ত বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে কাছে যান। বস্তার ভেতরে নড়াচড়া টের পেয়ে খুলে দেখেন, ভেতরে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে আছেন নাঈম।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নাঈম পরমেশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা ও হেকিম হাজির ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে সোনারগাঁ ও আশপাশের এলাকায় সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার, টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল ঘটনার পর তদন্ত নয়—অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার এবং যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একজন তরুণ শ্রমজীবী মানুষের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।









Discussion about this post