বিশেষ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাকে শপথ পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এ খবর প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে, দৈনিক প্রথম আলোসহ দেশি বিদেশি সকল সকল গণমাধ্যম।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।
এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। প্রায় দুই যুগ পর আবারও ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার।
নির্বাচনী জয় থেকে সরকার গঠন
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে জয় লাভ করে। জোটের শরিকরা পায় আরও ৩টি আসন।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত বহন করছে।
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন টেকনোক্র্যাট।
পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, আরিফুল হক চৌধুরী, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ অনেকে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ববি হাজ্জাজসহ নতুন ও পুরোনো মুখের সমন্বয়।
নতুন মুখের আধিক্য
পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ২৫ জনের ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীদের ২৪ জনই প্রথমবার দায়িত্ব পেলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। নতুনদের এই অন্তর্ভুক্তিকে দলীয় পুনর্গঠন ও প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে যেমন প্রত্যাশার পাহাড়, তেমনি রয়েছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান পরীক্ষা।
শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই নতুন অধ্যায় দেশের রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








Discussion about this post