বন্দর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে একদিকে মারধরের ঘটনা, অন্যদিকে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাগুলো এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম ঘটনায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকারের গাড়িচালক দেওয়ান মোশারফ মিয়ার বিরুদ্ধে সহকর্মী গাড়িচালক আবুল হোসেন (৫৫)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
আহত আবুল হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসকের দাপ্তরিক দায়িত্ব শেষে ফেরার পর গাড়ির ব্রেক প্যাডেল নিয়ে দুই চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দেওয়ান মোশারফ মিয়া পূর্ব শত্রুতার জেরে আবুল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবুল হোসেনের চিৎকারে সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার উভয় চালককে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করেছেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, একই দিন রাতে উপজেলার কেওঢালা ওভারবাগ এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুলাল মিয়া (৫৬) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
তিনি ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একই এলাকার কয়েক তরুণের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলেও সন্ধ্যার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে সাজিদ নামে এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে দুলাল মিয়ার বাসায় হামলা চালায়।
এ সময় দুলাল মিয়া, তার ছেলে ও স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুলাল মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য বিরোধ থেকে এমন সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post