নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মসজিদের ভেতরে এক রোজাদার ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা মফিজ হোসেন মজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আসর নামাজের পর সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের মক্কীনগর এলাকায় একটি মসজিদের ভেতরে। ভুক্তভোগী মো. মামুন (৩০) বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মক্কীনগর এলাকার একটি অংশে ড্রেনেজ সমস্যার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নিলে তাতে বাধা দেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মফিজ হোসেন মজু।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রেন পরিষ্কারের বিষয়ে পূর্বে তাকে অবহিত না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।
এ নিয়ে বুধবার আসরের নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে ভুক্তভোগী মামুনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মজু তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
প্রতিবাদ করলে মামুনকে চড়-থাপ্পড় মারার পর আরও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
এ ঘটনায় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মফিজ হোসেন মজু নিজেকে দক্ষিণ হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের মোতয়াল্লী হিসেবে পরিচয় দেন।
এছাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া প্রতি মাসে ময়লা ফেলার নামে ১০০ টাকা এবং বিভিন্নভাবে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন তিনি।
তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজ হোসেন মজু বলেন, “আমার ভুল হয়েছে।”
চাঁদা আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। ভূমিদস্যুতার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, “থানার এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।









Discussion about this post