নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী দুই নাম—সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং শামীম ওসমান। সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসফিয়া পাপিয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, আইভী “ফ্রেশ ইমেজের” নেতা, যিনি সারাজীবন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়েছেন; বিপরীতে শামীম ওসমানকে তিনি “সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই দাবি কতটা তথ্যভিত্তিক, আর কতটা রাজনৈতিক বক্তব্য ?
আইভীর ইমেজ: ‘ক্লিন’ না বিতর্কিত ?
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে আইভী দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।
# তিনি নিজেকে বরাবরই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
# শহরের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তার ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন রয়েছে।
তবে সমালোচনাও কম নয়—
# রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অভিযোগ করেন, দলীয় ভেতরের দ্বন্দ্বে তিনি প্রায়ই কঠোর অবস্থান নেন।
# কিছু ঘটনায় প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও তা প্রমাণিত অভিযোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্লেষণ:
আইভীর “ফ্রেশ ইমেজ” পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়, তবে স্থানীয় রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে—এমন ধারণা একটি অংশের মধ্যে প্রচলিত।
শামীম ওসমান: বিতর্ক ও প্রভাবের রাজনীতি
শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের অত্যন্ত প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।
# তিনি আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত।
# দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ও জনসমর্থন উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে—
# অতীতে বিভিন্ন সহিংসতা, ক্যাডার রাজনীতি ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
# যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে এসেছে এবং সব ক্ষেত্রে বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
বিশ্লেষণ: তাকে ঘিরে “সন্ত্রাসী” তকমা
রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহৃত হলেও, বিষয়টি বিতর্কিত এবং একপাক্ষিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
পাপিয়ার বক্তব্য: রাজনৈতিক অবস্থান না বাস্তব চিত্র ?
বিএনপি নেত্রী হিসেবে পাপিয়ার বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করা কঠিন।
# এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে আনার কৌশল হতে পারে।
# একইসাথে আইভীকে “গ্রহণযোগ্য মুখ” হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
মূল প্রশ্নগুলো হলো:
# এই বক্তব্য কি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ?
# স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক রেকর্ড কী বলছে ?
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে সাধারণত যে চিত্র পাওয়া যায়—
# আইভীকে অনেকেই “সোজাসাপ্টা” ও “দুর্নীতিবিরোধী” হিসেবে দেখেন।
# শামীম ওসমানকে অনেকে “ক্ষমতাবান ও নিয়ন্ত্রণকারী” নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
তবে দুই পক্ষেরই সমর্থকগোষ্ঠী শক্তিশালী এবং অবস্থান স্পষ্টভাবে বিভক্ত।
উপসংহার
সৈয়দা আসফিয়া পাপিয়ার বক্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তবে একে নিরপেক্ষ সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ কম।
# আইভীর ভাবমূর্তি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক হলেও তিনি বিতর্কমুক্ত নন।
# শামীম ওসমানকে ঘিরে অভিযোগ থাকলেও তা সবক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন:
এটি মূলত রাজনৈতিক বয়ান বনাম বাস্তবতার একটি ক্লাসিক উদাহরণ—যেখানে সত্য আংশিক, আর ব্যাখ্যা নির্ভর করছে দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর।








Discussion about this post