নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সহিংসতায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুনর্গঠনের পর নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করলেও, উপজেলা গণগ্রন্থাগারটি এখনো সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।
বরং সেটি বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের অস্থায়ী ব্যারাক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে আড়াইহাজার থানা ভবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রথমে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রে এবং পরে ২২ আগস্ট উপজেলা গণগ্রন্থাগারে থানার অস্থায়ী কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরবর্তীতে সংস্কার কাজ শেষে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থানা কার্যক্রম নিজস্ব ভবনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদস্যদের আবাসন সংকটের কারণে প্রায় ৩০ জন সদস্য এখনও গণগ্রন্থাগার ভবনে অবস্থান করছেন। ফলে লাইব্রেরির নির্ধারিত কক্ষগুলোতে বইয়ের পরিবর্তে রাখা হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, যা পাঠাগারের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে আড়াইহাজার উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই গণগ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটিতে পাঠাগার, অফিস কক্ষ, স্টোররুম, আলাদা ওয়াশরুম এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য হলরুম রয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই এটি পুলিশি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ায় মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, “গ্রন্থাগার হচ্ছে মানসিক বিকাশের কেন্দ্র। এখানে পাঠক ছাড়া অন্য কোনো ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।”
গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বাবুলের মতে, “একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাগারের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি।”
কবি ও চিত্রকর মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, “উপজেলার কেন্দ্রস্থলে একটি আধুনিক লাইব্রেরি গড়ে ওঠায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সেটি এখনো ব্যবহার করতে না পারায় হতাশা বাড়ছে।”
একই সুরে সাহিত্যিক অরণ্য সৌরভ বলেন, “এই পাঠাগারটি শিল্প-সাহিত্য চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারত। দ্রুত এটি পাঠকদের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানা ভবনের অবশিষ্ট সংস্কার কাজ শেষ হলেই পুলিশ সদস্যদের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইসলাম বলেন, “সংস্কার কাজ পুরোপুরি শেষ হলে পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব স্থানে স্থানান্তর করা হবে।”
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, “পুলিশ সদস্যদের থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হলেই গণগ্রন্থাগারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, “গণগ্রন্থাগারটি দ্রুত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং আড়াইহাজারের একমাত্র আধুনিক গণগ্রন্থাগারটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসবে—জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র









Discussion about this post