রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বরপা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এ এ ঘটনা ঘটে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান জানান, সকাল থেকেই বকেয়া বেতনের দাবিতে বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সেলিম বাদশা বলেন, রপ্তানিমুখী এই কারখানায় প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে তাদের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক গত মাসের বেতন পাননি।
গত বৃহস্পতিবার বেতন পরিশোধ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন দাবি করায় কয়েক দিন আগে তাদের মারধর করা হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সময়মতো বেতন না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে অন্তত ১০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে মহাসড়কে আটকে থাকা কিছু যানবাহনও ভাঙচুরের শিকার হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ব্যবহার করে এবং মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।”
তিনি আরও জানান, মালিকপক্ষ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোশাক শিল্পে নিয়মিত বেতন পরিশোধে অনিয়ম ও শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘদিনের সমস্যা।
সময়মতো বেতন পরিশোধ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যা শিল্পখাতের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।









Discussion about this post