নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র (Selina Hayat Ivy) ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে এক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তিনি মন্তব্য করেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভীকে জুলাই ২০২৪ সালের আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো সম্পূর্ণভাবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার।
যদি মনে করা হয়, আইভীকে প্রথমে মে ২০২৫ সালে জুলাই ২০২৪ সালের একটি হত্যা মামলায় আটক করা হয়েছিল। এরপর তাকে আরও চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়—যেগুলোর কোনোটিতেই তার গ্রেপ্তারের পক্ষে কোনো প্রমাণ ছিল না।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট এই পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দেন। এরপর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পুলিশ আবার তাকে জুলাই ২০২৪ সালের আরও পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
একইভাবে এসব মামলাতেও কোনো প্রমাণ ছিল না। মূলত তাকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতেই এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত সপ্তাহে হাইকোর্ট এসব পাঁচটি মামলাতেও জামিন দেন। আর এখন পুলিশ আবারও তাকে জুলাই ২০২৪ সালের আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অপব্যবহার। এটি শতভাগ রাজনৈতিক।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একই ধরনের অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আইনি মহলেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রবণতা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তারা মনে করেন, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিকভাবে, আইভীকে ঘিরে একের পর এক মামলার এই ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা—তা নিয়ে জনমনে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই পারে এই বিতর্কের সুরাহা করতে।








Discussion about this post