স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার তিন নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে ওই তিন নারীকে আটক করা হয়।
এরপর সেলিম মিয়া, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন মিলে তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এ সময় তাঁদের চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে হাত বাঁধা অবস্থায় তিন নারী দাঁড়িয়ে আছেন। এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে তাঁদের একজনের চুল কেটে দিচ্ছেন।
এ সময় ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে চুল না কাটার অনুরোধ জানান। অন্য একটি ভিডিওতে একটি ভবনের ভেতরে বেঁধে রেখে তাঁদের মারধরের দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে স্থানীয় শিশুদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার তিন নারীর মধ্যে দুজন খুলনা ও একজন কুমিল্লার বাসিন্দা। তাঁরা রূপগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ও পেশা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, পুলিশের কাছে ওই তিন নারী চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁদের দাবি, কাজের সন্ধানে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। উদ্ধার করার পর তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সেলিম মিয়া দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ওই তিন নারীকে হাতেনাতে ধরা হয়। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, “চুরি একটি অপরাধ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাউকে বেঁধে মারধর করা বা চুল কেটে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই চাইলে অভিযোগ দিতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি উঠেছে।








Discussion about this post