ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে উত্তাপ; ব্যালট ও ফলাফলপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর দুই প্রার্থী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।
একই সঙ্গে দেশের আরও কয়েকটি আসনেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকোর্ট-এর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর একক বেঞ্চে এসব মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান এবং ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ এনে পৃথক আবেদন করেন।
তাদের অভিযোগে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখল এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, লালমনিরহাট-১ ও ২ আসন থেকেও জামায়াত প্রার্থীরা একই ধরনের অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-১ আসনে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী সৈয়দ ইমরান সালেহ।
এর আগে বিএনপির সাতটি এবং জামায়াতের তিনটি আসনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্বাচনী বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। আদালতের এ নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনগুলোর ফলাফল নিয়ে নতুন করে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবীরা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-এর ৪৯ ধারার অধীনে নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত এসব আবেদন করা হয়েছে। এই ধারায় আদালত প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই করে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, পুনঃগণনা কিংবা পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের আসনগুলোতে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ অঞ্চলের ভোটের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহল বলছে—আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এসব অভিযোগের ভবিষ্যৎ। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।








Discussion about this post