স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্তি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে বিচারহীনতার নির্মম বাস্তবতা।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও আজও শুরু হয়নি বিচার—যা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য গভীর হতাশা ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্বকীর স্মরণে এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ’।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সদস্য সচিব কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় ত্বকীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হবে।
এছাড়া ১৪ মার্চ রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘ত্বকী সমাবেশ’-এর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কথা, গান, নাটক ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা প্রশ্ন রাখি—কেন ১৩ বছরেও একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলো না? কেন তদন্ত শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থা? এই দায় কার?”
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী ত্বকী। পরদিন ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রভাবশালী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনকভাবে তদন্ত এগোয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই দীর্ঘ সময়ে তিনটি সরকারের পরিবর্তন হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা র্যাব এখনও আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ। ফলে বিচার প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি।
এ পরিস্থিতিকে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এটি আইনের শাসনের প্রতি চরম অবহেলা এবং প্রভাবশালীদের প্রতি অঘোষিত প্রশ্রয়েরই প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি ১৩ বছরেও শুরু না হয়, তবে তা বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ভেঙে দেয়। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যতের অপরাধীদের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা বহন করে—“অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব।”
ত্বকীর পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, সেই আশার আলো ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—ত্বকী হত্যার বিচার কি আর কখনও শুরু হবে, নাকি এটি বাংলাদেশে বিচারহীনতার আরেকটি স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হবে ?








Discussion about this post