অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ—তদন্তের আগেই ‘রফা-দফা’, পরে সমালোচনায় প্রশাসনের নড়াচড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, বিয়ের প্রলোভন ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলন কুমার হাওলাদারকে অবশেষে ক্লোজড (পুলিশ লাইনে সংযুক্ত) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলে এ পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ভাঙ্গা উপজেলা এলাকায়, যেখানে এক নারী অভিযোগ করেন—জমি-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্রে পরিচয়ের পর এসআই মিলন কুমার তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, এই সম্পর্কের কারণে তার সংসার ভেঙে যায় এবং অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রতারণার মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয়।
রোববার দিবাগত রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত এসআইকে আটক করে থানায় নেয়া হলেও, অভিযোগ উঠেছে—পরে রহস্যজনকভাবে ‘সমঝোতা’ দেখিয়ে সোমবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্তের স্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ডেকে এনে গভীর রাতে ভাঙ্গা থানায় হাজির করা হয়। সেখানে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, ছাড়া পাওয়ার পরও এসআই মিলন কুমার তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
এমনকি কয়েকজন সাংবাদিককেও মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, অভিযুক্ত এসআই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে ভাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, এটি মূলত “প্রেমঘটিত বিষয়”, এবং উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি প্রতারণা, শারীরিক শোষণ ও হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা কীভাবে “প্রেমঘটিত বিষয়” হিসেবে হালকাভাবে দেখা হয় ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তার নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা ও পেশাগত নীতির বড় ধরনের সংকট সামনে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে মামলা এড়ানোর চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে চাপে রাখার প্রবণতা—আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
অবশেষে সমালোচনার মুখে প্রশাসন তাকে ক্লোজড করলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা ফৌজদারি মামলা দায়েরের স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এমন ঘটনার পর বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সেকেন্ড অফিসার ও ওসির ক্যাশিয়ার দাবি করা এ মিলন হাওলাদার শহরের আমলাপাড়ার এক নারীর সাথে নানা কৌশলে ঘৃণ্য কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুশীল সমাজের প্রশ্ন—
“শুধু ক্লোজড করলেই কি দায় শেষ, নাকি প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হবে?”
এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে সাধারণ মানুষ।








Discussion about this post