নগর প্রতিনিধি :
জ্বালানি তেল খাতে যেন একের পর এক চুরির সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।
দেশে জ্বালানি সংকটের মাঝে লোমহর্ষ কেমন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে চর চক্র।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিপো থেকে প্রায় পৌনে চার লাখ লিটার তেল চুরির ঘটনায় কুখ্যাত অপরাধী ‘ব্রাজিল বাড়ি’ টুটুলের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন করে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির ঘটনা সামনে এসেছে।
গোদনাইল ডিপো থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি তদন্তে মাঠে নেমেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান Padma Oil Company Limited-এর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তদন্ত দলের সদস্যরা রাজধানীর Kurmitola Depot-এ গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জিনিয়ার) কে এম আবদুর রহিম। তারা ডিপোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।
একই সঙ্গে তেলবাহী গাড়িগুলোর চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে Civil Aviation Authority of Bangladesh-এর সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া কুর্মিটোলা ডিপোতে মজুদ থাকা জ্বালানি তেলও পরিমাপ করে দেখা হয়েছে। এ সময় ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
পদ্মা অয়েল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের Godnail Padma Oil Depot থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি তেলবাহী গাড়ি রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর নম্বর হলো— ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮।
তবে রহস্যজনকভাবে কাগজে-কলমে এসব গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে অভিযোগ উঠেছে, গাড়িগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর প্রকৃত গতিপথ এবং কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশের তথ্য। নথিপত্রে গাড়িগুলোর পৌঁছানোর তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে তা ঘটেছে কি না—সেই বিষয়টি এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল মূলত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু তুলনামূলক কমমূল্যের হওয়ায় দুর্বৃত্ত চক্র এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের পাশাপাশি এটি জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ফতুল্লা ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় জ্বালানি খাতে নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের এ চক্র আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।








Discussion about this post