নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়িক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক, সমালোচনা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে আলোচিত নাম মোহাম্মদ হাতেম।
সেই বিতর্ক এড়াতেই এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে তাকে।
বিশাল আয়োজন করে শনিবার (১৪ মার্চ) ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হলেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কোনো সংসদ সদস্য (এমপি), জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) কিংবা প্রশাসনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে।
এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্ক ও অপ্রীতিকর ঘটনার পর নিজেকে আড়ালে রাখতেই এ ধরনের সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী ও বিকেএমইএ আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই মন্তব্যের জেরে হাতেমের অনুসারীরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে এবং একপর্যায়ে এমপিকে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।
ঘটনাটি দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলে এবং হাতেম বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার আগেও বিভিন্ন সময়ে মোহাম্মদ হাতেমের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বলয়ে সক্রিয় থাকার অভিযোগ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
সমালোচকরা তাকে “ওসমানীয় বলয়ের দালাল” এবং “ফ্যাসিস্ট সরকারের চাটুকার” বলেও আখ্যা দিয়ে আসছেন।
এমন অভিযোগ, সমালোচনা এবং একাধিকবার প্রকাশ্য লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটলেও বিকেএমইএ সভাপতির পদ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা দেখা যায়নি তার মধ্যে। বরং সমালোচকদের মতে, অত্যন্ত লাভজনক ও প্রভাবশালী এই পদ আঁকড়ে ধরতেই নানা কৌশল অবলম্বন করে চলেছেন তিনি।
ব্যবসায়ী মহলের অনেকে মনে করেন, বিষয়টি নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে একইভাবে বিকেএমইএ-এর নেতৃত্ব ধরে রেখেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো প্রভাব ও অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে আছেন ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম চেলা মোহাম্মদ হাতেম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিতর্কের পর প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এড়িয়ে ইফতার আয়োজনের এই সিদ্ধান্ত আসলে জনরোষ ও সমালোচনার চাপ থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে আড়াল করার কৌশল মাত্র।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—বিতর্ক এড়িয়ে চলার এই চেষ্টা কতদিন স্থায়ী হবে, আর ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব কি সত্যিই বিতর্কমুক্ত হতে পারবে ?
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।








Discussion about this post