স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আজ রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করা এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকবিহীন বা সীমিত কার্যক্রমে পরিচালিত জেলা পরিষদগুলোতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছে সরকার। নতুন প্রশাসকদের নেতৃত্বে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সেবা কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক
এবারের নিয়োগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মুখে ছিল বলে স্থানীয় মহলের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মহলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে জেলা পরিষদের সক্রিয়তা বাড়লে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাদেশে একযোগে নিয়োগ
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকনসহ আরও অনেকে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ
তবে স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রশাসক নিয়োগই যথেষ্ট নয়; জেলা পরিষদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে।
বিশেষ করে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে দ্রুত নগরায়ন, অবকাঠামোগত চাপ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত করতে হবে।
নতুন প্রশাসক মো. মামুন মাহমুদের সামনে তাই যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের দায়িত্বও। এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যক্রম কতটা গতিশীল হয়ে ওঠে এবং জেলার উন্নয়ন প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।







Discussion about this post